প্রকল্প ও কেনাকাটায় ধীরগতি নিয়ে জটিল পরিস্থিতিতে বিপিডিবি

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। পাশাপাশি নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিচালনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করে সংস্থাটি।

দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদনের একক ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি)। পাশাপাশি নিজস্ব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র পরিচালনা, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জ্বালানি ব্যবস্থাপনা, নতুন প্রকল্প বাস্তবায়নসহ নানা বিষয় নিয়ে কাজ করে সংস্থাটি। বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কার্যক্রম থেকে শুরু করে সংশ্লিষ্ট প্রকল্পের কেনাকাটা, দরপত্র মূল্যায়নে বিলম্ব, ধীরগতিসহ নানা সংকট মোকাবেলা করতে হচ্ছে সংস্থাটিকে। শিডিউল অনুযায়ী সময়মতো কাজ শেষ করতে গিয়ে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হচ্ছে বিপিডিবি। বিষয়টি নিয়ে বিপিডিবির পরিচালনা বোর্ড বিব্রতকর ও জটিল পরিস্থিতির সম্মুখীন হচ্ছে বলে সংস্থাটির এক চিঠি সূত্রে জানা গেছে।

বিপিডিবির চলমান প্রকল্প, দরপত্র মূল্যায়ন, প্রকল্পের কেনাকাটায় গতি আনতে কর্মকর্তা, উৎপাদন, বিতরণ প্রকল্পসংশ্লিষ্ট, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের চিঠি পাঠিয়ে জোরালো তাগিদ দেয়া হয়েছে। ২ জানুয়ারি বিপিডিবির সচিব মুহাম্মদ রাশেদুল হক প্রধানের সই করা এক চিঠি সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

বিপিডিবির ওই চিঠিতে বলা হয়, সংস্থাটির সব বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র, বিভিন্ন প্রকল্প, বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রয়োজনীয় মালপত্র কেনা এবং আসন্ন বিভিন্ন দরপত্র মূল্যায়নে প্রস্তাব মূল্যায়ন কমিটি (পিইসি) ও দরপত্র মূল্যায়ন কমিটির (টিইসি) মূল্যায়ন প্রতিবেদন প্রস্তুতে দেরি হচ্ছে। এ কারণে বিপিডিবির বিভিন্ন প্রকল্পসংক্রান্ত কাজ ও কেনাকাটায় দেরি হচ্ছে। এতে বিপিবিডির পরিচালনা বোর্ডকে বিব্রতকর পরিস্থিতি ও জটিল অবস্থায় পড়তে হচ্ছে।

জানতে চাইলে নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে এক কর্মকর্তা বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিপিডিবির উৎপাদন কার্যক্রম থেকে শুরু করে সরবরাহ ব্যবস্থাপনা ও নিজস্ব প্রকল্প বাস্তবায়নের কর্মপরিধি অনেক বড়। এসব কাজ করার জন্য দুটি কমিটি রয়েছে। কিন্তু তাদের কাজে বেশ ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে বোর্ড সভায় বিষয়গুলো উত্থাপন হলে অগ্রগতি সন্তোষজনক না হওয়ায় কর্মকর্তাদের বিব্রতকর পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হচ্ছে। শিডিউল অনুযায়ী সবকিছু ঠিক রাখাও যাচ্ছে না। বারবার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নির্দেশনা দেয়া হলেও নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা সামনে তুলে ধরা হচ্ছে। এতে বিপিডিবির কাজের গতি কমে যাচ্ছে।’

বিপিডিবির ২ হাজার ৭১তম বোর্ড সভা অনুষ্ঠিত হয় গত ২৪ ডিসেম্বর। সভায় বিভিন্ন প্রকল্পের দরপত্র মূল্যায়ন ও কাজে প্রতিবন্ধকতা নিয়ে এক অনির্ধারিত আলোচনায় অসন্তোষ প্রকাশ করেন বোর্ডের কর্মকর্তারা। ওই সভায় কাজে গতি আনতে পাবলিক প্রকিউরমেন্ট অ্যাক্ট-২০০৬ ও পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুলস-২০০৮ বিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে প্রস্তাব, দরপত্র মূল্যায়ন ও কেনাকাটায় জরুরি পদক্ষেপ নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়। বিষয়টি মনিটরিংয়েরও নির্দেশনা দেয়া হয়।

বিপিডিবি সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে সংস্থাটির দেড় শতাধিক দরপত্রের কাজ চলমান রয়েছে। গত বছর এসব দরপত্র আহ্বান করা হয় এবং টেন্ডার জমা দেয়ার সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে চলতি মাস পর্যন্ত। এসব দরপত্র মূলত বিদ্যুৎ কেন্দ্রের রক্ষণাবেক্ষণে যন্ত্রপাতি আমদানি, বিভিন্ন উপকেন্দ্র নির্মাণ, যন্ত্রাংশ আমদানি, লুব অয়েল ও বিদ্যুৎ কেন্দ্রের অবকাঠামোগত উন্নয়নসংক্রান্ত।

খাতসংশ্লিষ্টরা বলছেন, এককভাবে বিদ্যুতের ক্রেতাপ্রতিষ্ঠান বিপিডিবি হওয়ায় সংস্থাটির ওপর তীব্র চাপ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বিদ্যুৎ উৎপাদন, বিভিন্ন কেন্দ্রের জ্বালানি আমদানি, কেনাকাটা, প্রকল্প বাস্তবায়নসহ নানা কাজে জড়িত। এসব কাজ এককভাবে করতে গেলে কাজে ধীরগতি আসবে, সময়মতো কাজ হবে না এটাই স্বাভাবিক। সংস্থাটির ওপর চাপ কমানো উচিত। এতে কাজে গতি যেমন পাবে তেমনি যথাসময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নও হবে।

তবে বিপিডিবি এখন তাদের চলমান ও আসন্ন কাজগুলোর মধ্যে যেগুলো দ্রুত ও প্রয়োজনীয় সেগুলো অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এগিয়ে নিচ্ছে বলে জানান সংস্থাটির শীর্ষ কর্মকর্তারা। প্রকল্প বাছাই ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে যেসব দরপত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সেগুলোকে অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে বিপিডিবির চেয়ারম্যান মো. রেজাউল করিম বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিপিডিবির বিভিন্ন প্রকল্পে ও কাজে গতি আনতে যাচাই-বাছাই করে সেসব প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ সেগুলো আগে করা হচ্ছে। এতে বিপিডিবির কাজে যেমন গতি পাবে, সেই সঙ্গে দীর্ঘসূত্রতাও কমানো যাবে।’

বিপিডিবির হিসাব অনুযায়ী সংস্থাটির আওতাধীন বর্তমানে ১০টি প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। এর মধ্যে একটি বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ, ঘোড়াশাল বিদ্যুৎ কেন্দ্রের দুটি ইউনিটের সংস্কার, প্রি-পেইড মিটার স্থাপন ও বিতরণ ব্যবস্থার উন্নয়নসংক্রান্ত সাতটি প্রকল্প রয়েছে। এসব প্রকল্প চলতি বছর এবং ২০২৬ সাল নাগাদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে।

আরও